আমরা সবাই লেখাপড়া করছি, প্রতিদিন কত কিছুই না শিখছি। আমাদের এই শিক্ষাজীবন কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা কি আমরা কখনো ভেবে দেখেছি? এ সময়ে আমরা যদি আমাদের কাজগুলো ঠিকঠিকভাবে করার চেষ্টা করি, তবে আমরা হতে পারব সফল শিক্ষার্থী। বড়ো হয়ে আমি একটি সুন্দর জীবন আশা করতে পারি।
এই অধ্যায়ে আমরা মূলত পড়ালেখায় সফল হবার বা ভালো করার উপায় সম্পর্কে জানব। আর সবাই সবার সাধ্যমত চেষ্টা করব সফল শিক্ষার্থী হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে।

এই অধ্যায় শেষে আমরা-
- শিক্ষাক্ষেত্রে সাফল্য লাভের প্রয়োজনীয় গুণাবলির তালিকা করতে পারব।
- শিক্ষাক্ষেত্রে সাফল্য লাভের প্রয়োজনীয় গুণ অর্জনের উপায়সমূহ ব্যাখ্যা করতে পারব।
- শিক্ষাপ্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার প্রতি ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করব।
- শিক্ষাক্ষেত্রে সাফল্য লাভের প্রয়োজনীয় গুণাবলি বিষয়ক নাটিকায় অংশগ্রহণ করতে পারব।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
ভালো ফলাফলের জন্য নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেতে হবে। পড়ালেখা না বুঝলে শিক্ষকের কাছে জিজ্ঞাসা করতে হবে। সহপাঠক্রমিক কাজে অংশ নিতে হবে।
কায়কোবাদ একজন ধনী এবং শিক্ষিত লোক। তিনি সমাজ সংস্কারমূলক কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখেন। তিনি তার এলাকার নারীদের শিক্ষার জন্যে প্রচুর অর্থ ব্যয় করেন। তার কারণেই এলাকা থেকে বাল্যবিবাহ এবং বহুবিবাহ প্রথা ওঠে গেছে।
তোমাদের বয়সী রাশেদ চিঠি লিখেছে তার বন্ধু জুবায়েরকে।
এসো দেখি সে চিঠিতে কী লিখেছে।
প্রিয় জুবায়ের
কেমন আছিস বন্ধু? খালাম্মা ও খালুজানকে আমার সালাম দিস। তুই জেনে নিশ্চয়ই খুশি হবি যে আমি এবার বার্ষিক পরীক্ষায় দ্বিতীয় হয়েছি। আগের তুলনায় এত ভালো ফলাফল কী

করে করলাম তাই ভাবছিস? পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করা কিন্তু মোটেই কঠিন কিছু না। তবে হ্যাঁ, আমি আমার কিছু অভ্যাস বদলে নিয়েছি। এবারে আমি একটি ক্লাসেও অনুপস্থিত ছিলাম না। ক্লাসে যে শুধু নিয়মিত ছিলাম তাই নয়, মনোযোগীও ছিলাম। ক্লাসে শিক্ষকের কথা আমি মন দিয়ে শুনতাম। শ্রেণির কাজ মনোযোগ দিয়ে করতাম। প্রতিদিনের পড়া বাসায় গিয়েই পড়ে ফেলতাম, শেষ করতাম বাড়ির কাজ। আর হ্যাঁ, কোনো বিষয় না বুঝলে এখন আর আমি চুপ করে বসে থাকি না, শিক্ষককে জিজ্ঞাসা করি। শিক্ষকগণও তাতে অনেক খুশি হন। ক্লাসে শিক্ষক কিছু জিজ্ঞাসা করলে আমার মতো করেই উত্তর দেয়ার চেষ্টা করি। আমি এখন অনেক আত্মত্মবিশ্বাসী। আর ক্লাসের শেষে অথবা ক্লাসের ফাঁকে ফাঁকে বন্ধুদের সাথে আমি অন্যান্য বিষয় ছাড়াও পাঠ্য বিষয় নিয়েও আলোচনা করি। কোনো পড়া না বুঝলে এখন কিন্তু আমি হুট করেই হাল ছেড়ে দিই না। ধৈর্য নিয়ে, সময় নিয়ে তা সমাধানের চেষ্টা করি। যেসব বিষয়বস্তু আমার কাছে জটিল মনে হয় তা আমি বারবার অনুশীলন করি। এখন আমি আর শুধু অন্যের লেখা নোট আর গাইড বই না পড়ে নিজেই নোট তৈরি করি।
আরেকটা কথাতো বলাই হলো না। এবারের বিজ্ঞান মেলায় আমি আর আমার ক্লাসের কয়েকজন মিলে একটি প্রজেক্ট তৈরি করছি। একেবারে নতুন এই প্রজেক্টটি সবাইকে চমকে দেবে আশা করছি। তাই বলে ভাবিস না আমি বিকেলে হাডুডু আর ফুটবল খেলা ছেড়ে দিয়েছি। আগামী মাসে আমাদের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। তাই পড়াশোনার পাশাপাশি পুরোদমে চলছে খেলার প্রশিক্ষণ।
ভালো থাকিস বন্ধু। দেখা হবে নিশ্চয়ই।
তোর বন্ধু রাশেদ
| দলগত কাজ উপরের চিঠিটি পড়েছ তো? এবারে ক্লাসের সবাই দলে (৩/৪ জনের) ভাগ হয়ে নিচের প্রশ্নটির উত্তর বের করার চেষ্টা কর। প্রশ্ন-১: রাশেদের কী কী গুণের কারণে তার ভালো ফলাফল করা সম্ভব হলো? *এ কাজে একটি শ্রেণি কার্যক্রম বরাদ্দ করতে হবে। |
দলগত কাজ
| এসো শিক্ষকের সাহায্য নিয়ে উপরের শ্রেণির (৭ম/৮ম/৯ম/১০ম) ১০ জন সফল শিক্ষার্থীর তালিকা তৈরি করি। এবারে শ্রেণির সকল বন্ধু ছোটো ছোটো দলে বিভক্ত হয়ে প্রতিটি সফল শিক্ষার্থীর সাক্ষাৎকার নিই। জেনে নিই- কোন কোন গুণাবলি তাকে ভালো শিক্ষার্থী হতে সাহায্য করেছে? এ জন্য আমরা নিচের প্রশ্নমালাটি ব্যবহার করতে পারি। ১. গত এক বছরে আপনি কত দিন স্কুলে আসতে পারেননি? ২. কোনো ক্লাসে আসতে না পারলে তা কীভাবে পুষিয়ে নেন? ৩. ক্লাসে কিছু না বুঝলে আপনি কী করেন? ৪. শিক্ষক যখন ক্লাস নেন, তখন পাঠ ভালো মতো বোঝার জন্য আপনি কী করেন? ৫. আপনি সাধারণত কোন কোন সময় পড়ালেখা করেন? ৬. আপনি সাধারণত কখন বাড়ির কাজ করে থাকেন? ৭. আপনি পড়ার জন্য মূলত কোনটি/ কোনগুলি ব্যবহার করেন? (পাঠ্যবই, গাইড বই, বন্ধুর তৈরি নোট, নিজে তৈরি করা নোট ইত্যাদি) ৮. পড়ার জন্য আপনাকে বাসায় বা বাসার বাইরে কেউ সাহায্য করে কি? করে থাকলে কে কে করেন এবং কীভাবে? ৯. কোনো পড়া খুব কঠিন লাগলে বা একবারে না বুঝলে আপনি কী করেন? ১০. আপনি কীভাবে পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নেন? চলো প্রতিটি দল সাক্ষাৎকার থেকে প্রাপ্ত সফল শিক্ষার্থীর গুণাবলি তালিকাবদ্ধ করি এবং পোস্টারে লিখে উপস্থাপন করি। এবারে সবাই মিলে তালিকাগুলো থেকে একটি মূল তালিকা প্রস্তুত করি, যেখানে সকল দলের গুণাবলি থাকবে। কিন্তু একই গুণাবলি দুইবার উল্লেখ থাকবে না। আগের ক্লাসে লেখা রাশেদের কিছু গুণাবলি এখানে বাদ পড়লে তাও যোগ করে নাও তোমাদের চূড়ান্ত তালিকায়। চলো এবার এটি শ্রেণিকক্ষের দেয়ালে টাঙিয়ে দিই। দেখতো তাতে নিচে দেয়া গুণাবলি আছে কি না? *এ জন্য একটি শ্রেণি কার্যক্রম বরাদ্দ করতে হবে। |

আগের ক্লাসে আমরা সবাই মিলে সফল শিক্ষার্থীর গুণাবলির একটি তালিকা তৈরি করেছি। কিন্তু এই গুণগুলো কীভাবে অর্জন করা যায়? চলো এবারে আমরা চেষ্টা করি সফল শিক্ষার্থীর গুণাবলি অর্জনের পন্থাগুলো সম্পর্কে জানতে।
এসো নিচের ছবিগুলো দেখি আর কী ঘটছে তা একজন ক্লাসের সবাইকে বুঝিয়ে বলি।

এসো চিন্তা করি: উপরের ছবিগুলোতে ওরা কোথায় যাচ্ছে? কীভাবে যাচ্ছে? ওরা কি ভালো শিক্ষার্থী হতে পারবে? কেন তোমার এ রকম মনে হচ্ছে তা বন্ধুদের বুঝিয়ে বল।
এসো দেখি আমরা কী শিখলাম .…………..
এসো স্কুলে যাই প্রতিদিন
ভবিষ্যৎ হবে বাধাহীন
যদি তোমরা ভালো শিক্ষার্থী হতে চাও, তবে অবশ্যই নিয়মিত স্কুলে যাওয়া এবং প্রতিটি ক্লাসে উপস্থিত থাকাটা জরুরি। অনেক সময়ই শিক্ষার্থীরা মনে করে বাসায় বসে পড়েও ভালো শিক্ষার্থী হওয়া যায়। কিন্তু বেশির ভাগ শিক্ষার্থীই যারা পরীক্ষায় ভালো করে, তারা নিয়মিত স্কুলে আসে এবং ক্লাস করে। স্কুলে না এলে শিক্ষকের পড়ানো, শ্রেণির কাজ, নোট নেওয়া, ইত্যাদি কাজ থেকে তুমি পিছিয়ে পড়বে। আর স্কুলে শুধু আমরা পড়ালেখাই শিখি না, আরো অনেক কিছু শিখি। যেমন: সহপাঠীদের সাথে মিলেমিশে চলা ও তাদের সাথে পাঠ নিয়ে আলোচনা করা, শিক্ষকসহ সবার সাথে সুন্দর আচরণ করা, বন্ধুদের সাথে খেলাধুলা করা, তারা কেউ বিপদে পড়লে সাহায্য করা এ রকম আরও কত কী!

এসো চিন্তা করি: উপরের ছবি দুটি লক্ষ কর। সফল শিক্ষার্থী হবার সাথে সালাম ও শিউলির কাজগুলোর কোনো সম্পর্ক আছে কি? থাকলে, কীভাবে তা সালামকে সফল শিক্ষার্থী হতে সাহায্য করতে পারে তা নিয়ে আলোচনা করি।
এসো দেখি আলোচনা শেষে আমরা কী শিখলাম ..........
ক্লাসে নিয়মিত উপস্থিত হলেই কিন্তু যথেষ্ট নয়। প্রতিটি ক্লাসে মনোযোগ দিয়ে শোনা উচিত। শিক্ষক যা বোঝানোর চেষ্টা করেন তা একটু মন দিলেই আসলে বোঝা যায়। ক্লাসে পড়া বুঝতে পারলে বাসায় গিয়ে পড়ার জন্য পরিশ্রমও কমে যায়। শিক্ষক যখন শ্রেণির কাজ দেন, তখন তা মন দিয়ে করার চেষ্টা করা প্রয়োজন। আর বাড়ির কাজ কী করতে হবে তা ঠিকভাবে নোট বুকে তুলে না নিলে বাসায় আসতে আসতে ভুলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। অনেক সময়ই তোমরা মনে কর যে লেখার দরকার নেই, হয়ত মনে থাকবে। কিন্তু মানুষের মস্তিষ্কে এত কিছু মনে রাখা বা ধারণ করা আসলে সম্ভব নয়। তাই সবসময় নিজেকে সাহায্য করার জন্য একটি ডায়রি বা নোটবুক রাখবে। প্রয়োজনীয় সবকিছু তাতে লিখে রাখবে। লেখার জন্য শোনায় যেন কোনো ব্যাঘাত না ঘটে। এ জন্য অবশ্যই তোমাকে মনোযোগ দিয়ে শিক্ষকের কথা শুনতে হবে। শ্রেণিকক্ষে কী কী ঘটছে, সে ব্যাপারেও খেয়াল রাখা প্রয়োজন। শ্রেণিকক্ষে মনোযোগ ধরে রাখা সবসময় সহজ নাও হতে পারে। চেষ্টা করতে হবে শ্রেণিকক্ষে থাকাকালীন অন্যান্য বিষয় নিয়ে চিন্তা না করার। অন্য কিছু মাথায় আসলেও তা সেই মুহূর্তে মাথা থেকে দূর করার চেষ্টা করা উচিত।

এসো চিন্তা করি: উপরের ছবিতে অণিমা ও রাসেল কী করছে? সফল শিক্ষার্থী হবার কোন গুণটি তাদের আছে, তা নিয়ে আলোচনা করি।
সময়মত পড়ালেখা, সময়মত খেলা
এমনি করেই নিয়মমত কাটে আমার বেলা।
এসো দেখি নিয়মমাফিক সময়মত কোনো কাজ করার সুবিধা। আরও দেখি সময়মত কোনো কাজ না করলে কী কী সমস্যা দেখা দিতে পারে।
| সময়মত কাজ করার সুবিধা | সময়মত কাজ না করার অসুবিধা |
| ১। প্রতিদিনের পড়াটা প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে শেষ করলে পরীক্ষার আগে চাপ পড়ে না। | ১। অনেক সময় আমরা প্রতিদিনের পড়া প্রতিদিন শেষ করি না। তখন পরীক্ষার আগে অনেক পড়া জমে যায়। এত পড়া একসাথে পড়ার চেষ্টা করলেও আসলে তা সম্ভব নয়। ফলে পরীক্ষার আগে আমাদের অনেক কষ্ট হয়, ফলাফলও ভালো হয় না। |
| ২। একসাথে অনেক পড়া পড়তে হয় না বলে পড়ার মাঝে আনন্দ পাওয়া যায়। | ২। একসাথে অনেক পড়া পড়তে হয় বলে মনের মধ্যে পড়ার ভয় জমে যায়। |
| ৩। খেলার জন্য, শখের কাজটি করার জন্য, আত্মীয়দের বাড়িতে যাবার জন্য, ছোটো ভাই- বোনকে পড়ানোর জন্য...... এরকম অনেক কাজের জন্যও যথেষ্ট সময় থাকে। | ৩। কোনো আনন্দের মুহূর্তও উপভোগ করতে পারি না। হয়ত কোনো একটি জন্মদিনের অনুষ্ঠানে গিয়েছি, কিন্তু মোটেই মজা করতে পারছি না। কারণ শুধুই মনে হচ্ছে, সামনে পরীক্ষা, পড়া হয়নি। |
| ৪। প্রতিটি কাজের জন্য সময় থাকে বলে কাজগুলো ঠিকমত করা যায়। | ৪। প্রতিটি কাজের জন্য যথেষ্ট সময় থাকে না বলে কাজগুলো ঠিকমতো করা যায় না। তাড়াহুড়ায় কাজগুলো ভালোভাবে করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। |
| ৫। এতে করে ঠিক সময়ে ঘুম, খাওয়া, পড়া, খেলা করা সম্ভব। তাই শরীর-স্বাস্থ্যও ভালো থাকে। | ৫। অনিয়মের কারণে স্বাস্থ্য খারাপ হতে পারে। |
সবচেয়ে ভালো হয় যদি প্রতিদিন কখন কী কাজ করব তার একটি সাপ্তাহিক রুটিন তৈরি করা যায়।
রুটিনমাফিক সব কাজ করার মাঝেও অনেক আনন্দ পাওয়া যায়।

এসো চিন্তা করি: ছবিতে শিক্ষার্থীরা কী করছে? তোমরাও কি ক্লাসে এরকম কাজ কর? এরকম আর কী কী কাজ তোমরা করো?
শিক্ষার্থী হিসেবে সক্রিয় থাকি
সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন আঁকি।
এবারে এসো একটি গল্প শুনি......
সক্রিয় সুমি
|
| দলগত কাজ এসো আলোচনা করে নিচের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করি: সুমিকে তার সহপাঠী বন্ধুরা কেন সক্রিয় সুমি বলে ডাকে তা ব্যাখ্যা কর। |

একবারে পড়া যদি না বুঝি ভাই
ধৈর্য ধরে বারবার চেষ্টা করে যাই।
কাজ: এবারে চল একটি ধাঁধার সমাধান করি: ![]() ধাঁধা: এক লোক একটি বাঘ, একটি ছাগল, এক ঝুড়ি পান নিয়ে নৌকায় করে নদী পার হবে। কিন্তু শর্ত আছে। |
- বলোতো বাঘ, ছাগল এবং পানের ঝুড়িকে সে কীভাবে নদীর অন্য পারে নেবে?
কী, করতে পেরেছ ধাঁধার সমাধান? হয়তো কেউ কেউ পেরেছ। যারা এখনো ধাঁধার সমাধান বের করতে পারনি, তারা বন্ধুদের সাহায্য নিতে পার। যারা পেরেছ তারা কি একবারেই পেরেছ? নিশ্চয়ই না। বেশিরভাগেরই এ জন্য কয়েকবার করে চেষ্টা করতে হয়েছে। কোনো কাজে সফল হওয়ার জন্য ধৈর্য ধরে চেষ্টা করাকে আমরা বলি অধ্যবসায়। এটিও সফল শিক্ষার্থী হবার একটি বড়ো গুণ।
ঠিক ধাঁধার সমাধানের মতোই অনেক সময় পড়া বুঝতে, শ্রেণির কাজ বা বাড়ির কাজ করতে একবারের চেষ্টায় সফল হওয়া যায় না। তখন অনেক সময় আমাদের রাগ হয়, মন খারাপ হয়। তবে মনে রাখতে হবে, চেষ্টা করলে প্রায় সব কাজেই কিছুটা হলেও সফল হওয়া যায়। আর সবচেয়ে বড়ো কথা হলো-চেষ্টা করে ব্যর্থ হলেও লজ্জার কিছু নেই। বরং চেষ্টা করাটাই সম্মানজনক, চেষ্টা না করাটাই বোকামি। আবার কিছু কিছু কাজ আছে যা বারবার করলে দক্ষতা জন্মায়। ফলে কাজটি কম সময়ে নিখুঁতভাবে করা যায়। যেমন: প্রথমবার রুটি তৈরি করতে গেলে সময় অনেক বেশি লাগে এবং রুটির আকৃতি ও সুষম হয় না। কিন্তু বরাবার চেষ্টা করতে থাকলে একসময় রুটিটি সুন্দর গোলাকার ও পাতলা হয় এবং সময়ও কম লাগে বলতে পার আর কী কী কাজ আছে যেগুলো বারবার করার ফলে আমরা কাজটি করায় পটু হয়ে উঠি?
উপরের অনুচ্ছেদে আমরা ধৈর্য এবং অধ্যবসায় সম্পর্কে কিছু বিষয় বা ধারণা জানলাম। সেগুলো হলো:-

এগুলো আবার একটি আরেকটির সাথে সম্পর্কযুক্ত। যেমন: ধৈর্য ধরে বারবার চেষ্টা করলে তাকে আমরা বলছি অধ্যবসায়। আর অধ্যবসায়ের কারণে আমরা কোনো কাজে সফল হতে পারি এবং জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করতে পারি। সফলতা আত্মবিশ্বাস তৈরি করে। আবার আত্মবিশ্বাস আমাদেরকে করে তোলে আরও সফল। দক্ষতা জন্মালে আমরা কাজকে নিখুঁতভাবে করতে পারি, আমাদের সময় কম লাগে, ভুলও হয় কম।
এই বিষয়গুলোকে এদের সম্পর্ক অনুযায়ী নিচের মতো করে সাজানো যায়। একে বলে ধারণা মানচিত্র


এসো চিন্তা করি: ছবিতে রিমি আর সুমনা কী করছে? বলতে পার সবাই ওদের কেন সৃজনশীল বলে?
তোমরাও কি ওদের মতো হতে চাও?
নতুন কিছু করব আমি, নতুন কিছু গড়ব
এমনিভাবেই জীবন আমি সফলতায় ভরব।
একক কাজ
|

এসো চিন্তা করি: দিলারা আর মইনুল দুই ভাই-বোন। তারা কী করছে? কেনই বা করছে?
শুধুই মুখস্থ করি না আমি, বুঝে বুঝে পড়ি
সহজেই এ জ্ঞান তাই জীবনে প্রয়োগ করি।
দিলারা আর মইনুলের গল্প 'মুক্তিযোদ্ধারা ছিলেন সাহসী... মুক্তিযোদ্ধারা ছিলেন সাহসী...'। |
দলগত কাজ
তাহলে নিশ্চয়ই আমরা সবাই চেষ্টা করব বুঝে পড়ার। যেমন: এ অধ্যায়ের বিষয়বস্তুগুলো মুখস্থ না করে ভালোভাবে বুঝলে আর এ নিয়ে চিন্তা করলে তুমি নিজের জীবনে এর প্রভাব বুঝতে পারবে। নিজের জীবনে এগুলো কাজে লাগিয়ে তুমিও সফল শিক্ষার্থী হয়ে উঠবে। |

এসো চিন্তা করি: আগের পৃষ্ঠার ছবিগুলো ব্যাখ্যা কর। পাশের বন্ধুর সাথে এটি নিয়ে আলোচনা কর।
নিজেকেই প্রশ্ন করি কী শিখলাম আমি
যা কিনা আমার জন্য সোনার চেয়েও দামি।
| কাজ এসো জোড়ায় বসে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করি। ১. আমাদের চারপাশের গাছপালার সংখ্যা দিনদিন কমে যাচ্ছে। কমে যাওয়ার কারণগুলো কী? ২. গাছপালা কমে যাওয়ার ফলে পরিবেশের উপর কী কী বিরূপ প্রভাব পড়ছে? ৩. এভাবে পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ার ফলে আমরা কী ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি? ৪. গাছপালা রক্ষায় আমাদের করণীয় কী? এবারে পাশের সহপাঠীর সাথে আলোচনা কর ও উপস্থাপন কর। |
তোমরা যে চিন্তাগুলো করেছ তা হলো তোমাদের শিখনসংক্রান্ত চিন্তা। শিক্ষার্থী হিসেবে সফল হতে হলে এ ধরনের চিন্তা-ভাবনা জরুরি। অর্থাৎ আমরা সবসময় চিন্তা করব কী শিখলাম?, কীভাবে শিখলাম?, কেন শিখলাম?, কীভাবে শিখলে আরও ভালোভাবে বুঝতে পারতাম?.... ইত্যাদি নানা প্রশ্ন।
আমরা সফল শিক্ষার্থী হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে নিয়মিত উপস্থিতি, মনোযোগ, নিয়মানুবর্তিতা, সক্রিয়তা, ধৈর্য, সৃজনশীলতা, পাঠ্য বিষয়ের প্রয়োগ, শিখন নিয়ে চিন্তা করা ইত্যাদি গুণাবলি অর্জনের পন্থা সম্পর্কে জানলাম। এগুলো জানার জন্য কখনো আমরা ছবি দেখে আলোচনা করেছি, কখনো গল্প বা ঘটনার বর্ণনা পড়েছি। এবারে আমরা আরো দুটি গুণ আত্মত্মবিশ্বাস আর আত্মমর্যাদা অর্জনের পন্থাগুলো জানব। কিন্তু এবারে মূল দায়িত্বটি নেবে তুমি......
একক কাজ ও উপস্থাপনা
|
একক কাজ ও উপস্থাপনা এবারে আত্মমর্যাদা বোঝানোর জন্য পোস্টারে ছবি বা কার্টুন আঁকবে (আগের পাঠগুলোতে রয়েছে)। ছবিতে একজন মানুষ কিছু একটা করছে। যা করছে তা আত্মমর্যাদাসম্পন্ন মানুষ করে থাকে। সাথে এটি বোঝানোর জন্য একটি ছোটো ছড়া লেখার চেষ্টা কর। এরপর প্রত্যেকে অল্প সময়ের মধ্যে তা বন্ধুদের সামনে উপস্থাপন কর। |
সমাজে এমন অনেক মানুষ আছেন যাঁরা অনেক বিখ্যাত। আমরা তাদের শ্রদ্ধা করি। যেমন: বেগম রোকেয়া, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এবং আরও অনেকে। বেশিরভাগ খ্যাতিমান মানুষই তাদের শিক্ষাজীবনে ছিলেন সফল। কারণ তাঁরা মনোযোগ দিয়ে শিখেছেন আর তা যথাযথভাবে কাজে লাগিয়েছেন। তোমরা কি তোমাদের আশেপাশের এমন কিছু মানুষের কথা চিন্তা করতে পার, যাঁরা শিক্ষার মাধ্যমে খ্যাতিমান হয়েছেন?
দলগত কাজ
|
এসো আমরা আজ দুজন খ্যাতিমান মানুষের শিক্ষাজীবন সম্পর্কে জানি। দেখি কী করে তারা শিক্ষার মাধ্যমে খ্যাতিমান হয়ে উঠলেন।
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের কথা নিশ্চয়ই তোমরা সবাই জান। তিনি ছিলেন একজন মহান পণ্ডিত, শিক্ষাবিদ, সমাজ সংস্কারক, লেখক এবং দানশীল ব্যক্তিত্ব। মাত্র ২১ বছর বয়সে তিনি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের প্রধান পণ্ডিত নিযুক্ত হন। পরবর্তীতে তিনি কলকাতা সংস্কৃত কলেজের অধ্যক্ষের পদও অলংকৃত করেন। তাঁর জ্ঞান ও কর্মদক্ষতার মুগ্ধ হয়ে তৎকালীন বৃটিশ সরকার ১৮৫৫ সালে তাঁকে বিদ্যালয়ের বিশেষ পরিদর্শক হিসেবে নিয়োগ করে। এ তো গেল তাঁর চাকরি জীবনের কথা। তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে তিনি অনেক সম্মাননা এবং ফেলোশিপ পেয়েছেন। বিদ্যাসাগর অনেক বই লিখেছিলেন, বিশেষ করে শিশুদের জন্য তিনি অনেক পাঠ্যপুস্তক রচনা করেছেন। বাংলা গদ্য লেখায় তিনি নতুন ধারার প্রবর্তন করেছিলেন। নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি বিধবাবিবাহ প্রবর্তন এবং বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহ রোধে অনেক যুক্তিতর্ক তুলে ধরেছেন। তাঁর নিরলস চেষ্টার ফলেই পরবর্তীতে সরকার আইন করে বাল্যবিবাহ বন্ধ ও বিধবাবিবাহ চালু করে। বিদ্যাসাগর শিক্ষার প্রসারে, বিশেষ করে মেয়েদের শিক্ষার প্রসারে নিজের অর্থ ব্যয় করে অনেক বিদ্যালয় চালু করেছিলেন। পাশাপাশি তিনি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তিদেরও এ কাজে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করতেন। বলা হয়ে থাকে, বিদ্যাসাগর তাঁর মোট আয়ের অর্ধেক দরিদ্রদের সাহায্যের জন্য আলাদা করে রাখতেন। এতসব মহান কীর্তির জন্য বিদ্যাসাগরকে তাঁর যুগের একজন শ্রেষ্ঠ মানুষ হিসেবে বিবেচনা করা হয়; এখনো তাঁকে আমরা অসীম শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি। বিদ্যাসাগরের এতসব মহান কীর্তির পিছনের রহস্য কী? তিনি অবশ্যই অসাধারণ সৎ, সাহসী এবং দৃঢ়প্রতিজ্ঞ একজন ব্যক্তি ছিলেন। এর পাশাপাশি তাঁর অনন্য শিক্ষাজীবনের ভূমিকাও কম নয়। শিক্ষার প্রতি ছিল তাঁর প্রবল আগ্রহ। সে কারণে তাঁর বাবা-মা অভাব-অনটন সত্ত্বেও তাঁকে পড়াশোনা করিয়েছেন। গ্রামের পাঠশালার পড়াশোনা শেষ করার পর তাঁর বাবা-মা তাঁকে আরও পড়াশোনার জন্য কলকাতায় পাঠান। বলা হয়, গ্রাম থেকে কলকাতায় যাওয়ার সময় রাস্তায় বসানো মাইলফলক দেখে দেখে তিনি ইংরেজি সংখ্যা শিখে ফেলেন। কলকাতায় তিনি বাড়িতে আলোর অভাবে অনেক সময় রাস্তার লাইটপোস্টের আলোতে পড়াশোনা করতেন! বিদ্যাসাগর কিন্তু তাঁর বাবা-মার দেয়া নাম নয়। এটি একটি উপাধি। তিনি ১৮২৯ থেকে ১৮৪১ সাল পর্যন্ত কলকাতা সংস্কৃত কলেজে পড়াশোনা করেন। এসময় তিনি শিক্ষায় অসামান্য সাফল্যের জন্য কলেজের সব পুরস্কার এবং বৃত্তি লাভ করেন। সব বিষয়ে তাঁর অসাধারণ পাণ্ডিত্য দেখে কলেজ কমিটি তাঁকে 'বিদ্যাসাগর' উপাধিতে ভূষিতে করে। তখন তাঁর বয়স মাত্র ১৯। তাঁর এই অসাধারণ শিক্ষাজীবনই পরবর্তীতে তাঁর খ্যাতিমান হয়ে ওঠার পিছনে অনেক অবদান রাখে। আমরা তাঁকে সবসময় অনুসরণ করার চেষ্টা করব। তাহলে আমাদের জীবনও অনেক সুন্দর হবে। |
বেগম রোকেয়া বেগম রোকেয়ার কথাও নিশ্চরই তোমাদের কারো অজানা নয়। তিনি একজন সাহিত্যিক, শিক্ষাবিদ এবং সমাজসংস্কারক ছিলেন। বাংলাদেশের রংপুরে জন্ম নেওয়া এই মহীয়সী নারীকে বলা হয় বাংলায় মুসলিম নারী জাগরণের পথিকৃৎ। নারীমুক্তির জন্য তিনি মেয়েদের বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছেন; মুসলিম মেয়েদের বিদ্যালয়ে আনার জন্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার চালিয়েছেন। শুধু তাই নয়, নারী জাগরণের জন্য তিনি অনেক প্রবন্ধ, ছোটো- গল্প, কবিতা ও উপন্যাস লিখেছেন। মুসলিম নারীদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করার জন্য তিনি 'আঞ্জুমানে খাওরাতিনে ইসলাম' নামে একটি প্রতিষ্ঠানও সৃষ্টি করেছিলেন। এসব কাজের জন্য তাঁকে অনেক সমালোচনাও সহ্য করতে হয়েছে। কিন্তু তিনি কখনো তাঁর লক্ষ্য থেকে পিছিয়ে আসেননি। তাঁর এই সব অনন্য অবদানের পিছনে রয়েছে শিক্ষার ভূমিকা। তখনকার দিনে মুসলিম মেয়েদের বিদ্যালয়ে পাঠানো হত না। বেগম রোকেয়াও বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষা নেবার সুযোগ পাননি। কিন্তু শিক্ষার প্রতি ছিল তাঁর অসীম আগ্রহ। তাই তাঁর ভাইয়েরা তাঁকে বাড়িতে বাংলা ও ইংরেজি শিখতে সাহায্য করেছেন। তিনি শিক্ষার পিছনে সবচেয় বেশি অনুপ্রেরণা পেরেছিলেন তাঁর স্বামীর কাছ থেকে। স্বামীর অবিরাম অনুপ্রেরণা ও সহায়তার ফলে তিনি বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনা এবং পত্র-পত্রিকায় লেখা শুরু করেন। এই পড়াশোনা এবং সাহিত্যচর্চা তাঁর মনের দুয়ার খুলে দেয়। তিনি বুঝতে পারেন, এদেশের নারীদের মুক্তির জন্য শিক্ষা ও অধিকার সচেতনতার বিকল্প নেই। শিক্ষার মাধ্যমে অর্জিত এই চেতনাবোধ থেকেই তিনি নারীদের মুক্তির জন্য এগিয়ে আসেন। তাঁর মৃত্যুর পরও তাঁর চেতনা ধারণ করে অনেকে মুসলিম নারীদের মুক্তির জন্য সংগ্রাম করেছেন। তাঁদের অনেকেই ছিলেন বেগম রোকেয়ার ছাত্রী। আজ যে মুসলিম নারীরা স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে পড়াশোনা করছে, সমাজের নানা ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে তার পিছনে বেগম রোকেয়ার অবদান সবচেয়ে বেশি। তাই আজও আমরা তাঁকে এবং তাঁর অবদানকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি। |
খবরের কাগজে ২০১১ সালে দু'জন শিক্ষার্থীর শিক্ষাক্ষেত্রে সাফল্যের দুটি খবর ছাপা হয়েছিল। এসো আমরা প্রত্যেকে সেগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়ি।


দেখলে তো, পড়ালেখার প্রতি অদম্য আগ্রহ আর ইচ্ছাশক্তির কাছে হার মেনেছে ওদের হাজারো বাধাবিপত্তি। চলো এবারে একটু আলোচনা করা যাক।
| দলগত কাজ দলে বসে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজে বের করার চেষ্টা করি। প্রশ্ন-১: রোজিনা আর রাব্বীর জীবনে শিক্ষার পথে কী কী বাধাবিপত্তি ছিল? প্রশ্ন-২: কেন রোজিনা আর রাব্বীকে 'অদম্য মেধাবী' বলা হয়েছে? |

এরা সবাই রোজিনা আর রাব্বীর মত অদম্য মেধাবী। সব শিক্ষার্থীর জীবনই একরকম হয় না। হয়ত কারো বাবা-মা তাদেরকে অনেক বেশি টাকা খরচ করে অনেক জিনিস কিনে দিতে পারেন। আবার অনেক বাবা-মা তা পারেন না। কারও কারও বাবা-মা অথবা বড়ো ভাই-বোন তাদের পড়ালেখায় সাহায্য করে। আবার কেউ কেউ এ রকম সাহায্য পায় না। কেউ কেউ বাড়িতে শিক্ষকের কাছে পড়ে, কেউ হয়ত তা পড়ে না। এমনকি কারো হয়ত একটি হাত নেই, অথবা সবার মত হাঁটতে পারে না। এ রকম পার্থক্য থাকতেই পারে। কিন্তু তারপরও সফল শিক্ষার্থী হবার সুযোগ ও সম্ভাবনা রয়েছে সবারই। এর জন্য আগ্রহ আর ইচ্ছাশক্তি আর পরিবারের উৎসাহই যথেষ্ট, আর প্রয়োজন সফল শিক্ষার্থী হবার উপায়গুলো মেনে চলা। সফল শিক্ষার্থীদের আশেপাশের সবাই স্নেহ করেন, আদর করেন আর তাদেরকে শ্রদ্ধাও করেন। ঠিক যেমন আমরা শ্রদ্ধা করি রাব্বি আর রোজিনার মত শিক্ষার্থীদের। কারণ, তারা তাদের সাফল্য নিশ্চিত করেছে এবং আত্মবিশ্বাস নিয়ে একজন মর্যাদাশীল মানুষ হবার জন্য ভবিষ্যতের দিকে হাত বাড়িয়েছে।
এসো নাটিকায় অংশ নেই
আমরা তো জানলাম সফল শিক্ষার্থীর গুণাবলি, সেগুলো অর্জনের উপায়। আরও জানলাম কীভাবে মানুষ শিক্ষার মাধ্যমে খ্যাতিমান হয়ে উঠতে পারে, এমনকি অনেক বাধা-বিঘ্ন পেরিয়ে। এবারে আমরা এসব শেখাকে কাজে লাগিয়ে একটি নাটক তৈরি করব, আর তা সবাইকে অভিনয় করে দেখাব।
নাটিকা রূপরেখা তৈরি
নাটিকাটি এমন হবে, যেন তাতে নিচের বিষয়গুলো ফুটে ওঠে-
- শিক্ষায় সাফল্য লাভের জন্য প্রয়োজনীয় গুণাবলি
- শিক্ষায় সাফল্য লাভের জন্য প্রয়োজনীয় গুণাবলি অর্জনের উপায়
- শিক্ষায় সাফল্য লাভের গুরুত্ব
নাটিকার কাহিনিটি এরকম হতে পারে: দুই বন্ধু। তাদের একজনের সফল শিক্ষার্থীর গুণগুলো রয়েছে। সে এই গুণগুলো চর্চা করে তার জীবনে। ফলে সে জীবনে ভালো কিছু হতে পারে। অন্য বন্ধুটি গুণগুলোর চর্চা করে না। ফলে সে নানা সমস্যায় পড়ে। ইচ্ছা করলে তোমরা অন্য কোনো কাহিনিও তৈরি করতে পারো। তবে তাতে যেন উপরে উল্লেখ করা বিষয়গুলো থাকে। তোমরা দলে বসে নাটিকাটির মূল কাহিনি ঠিক করো। এবারে প্রত্যেক দলের কাহিনি পড়ে শোনাও বাকি বন্ধুদের। ভোটের মাধ্যমে জয়ী কাহিনিটিই বেছে নাও তোমাদের নাটকের জন্য। দরকার হলে কয়েকটি কাহিনীকে একসাথে মিলিয়ে একটি কাহিনী তৈরি করো।
নাটিকাটি লেখা
এবারে কাহিনিটি নাটিকা আকারে লিখতে হবে। এ জন্য দলে ভাগ হয়ে একেকটি দল একেকটি দৃশ্যের পরিকল্পনা করো। এবারে একেবারে বিস্তৃতভাবে প্রতিটি দৃশ্যে কে কী কী কথা বলবে এবং কী করবে তা লিখতে হবে। লেখা শেষ হলে সবার লেখাগুলোকে একসাথে করতে হবে।
| *নাটিকাটি লেখার জন্য তিনটি শ্রেণি কার্যক্রম বরাদ্দ করতে হবে। |
শিল্পী বাছাই এবং কাজের দায়িত্ব বণ্টন
নাটিকার প্রত্যেকটি চরিত্রে অভিনয় করবে তোমরা নিজেরাই। কে কোন চরিত্রে অভিনয় করতে চাও তা শিক্ষকের কাছে লিখে জানাও। একই চরিত্রে যদি একজনের বেশি অভিনয় করতে আগ্রহী থাকে, তবে শিক্ষক তাদেরকে ছোট্ট একটি অভিনয় করতে দেবেন। এরপর তা দেখে সবার ভোটে যে জয়ী হবে, সে-ই নির্দিষ্ট সেই চরিত্রে অভিনয় করবে।
| *শিল্পী বাছাই এবং কাজের দায়িত্ব বণ্টনের জন্য একটি শ্রেণি কার্যক্রম বরাদ্দ করতে হবে। |
এবারে তোমরা নাটিকাটি করার জন্য কী কী কাজ করতে হবে তার একটি তালিকা তৈরি করো। যেমন: নাটিকার মঞ্চ সাজানো, স্কুলের অন্যান্য শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীদের নিমন্ত্রণ করা ইত্যাদি। কী কী জিনিসপত্র জোগাড় করতে হবে তাও ঠিক করো। এবারে শিক্ষক সবাইকে কাজের দায়িত্ব ভাগ করে দিবেন। নাটিকাটি কোথায়, কবে এবং কখন অনুষ্ঠিত হবে, কে কে উপস্থিত থাকবে তা নির্ধারণ করতে ভুলো না কিন্তু।
অভিনয় অনুশীলন
এবারে তোমরা মূল অভিনয়টি করার আগে ভালোভাবে অনুশীলন করে নাও। যারা অভিনয় করছ না তারাও অভিনয়টির অনুশীলন দেখ। কীভাবে তোমাদের বন্ধুরা আরও ভালো করতে পারে সে বিষয়ে পরামর্শ দাও।
| *অভিনয় অনুশীলনের জন্য ছয়টি শ্রেণি কার্যক্রম বরাদ্দ করতে হবে। |
অভিনয়
যারা অভিনয়ের জন্য মনোনীত হয়েছ তারা অনুশীলনের পর শ্রেণিকক্ষে নাটিকাটি অভিনয় করবে।
| *মূল অভিনয় একটি শ্রেণি কার্যক্রমে অনুষ্ঠিত হবে। |
অভিনয় থেকে কী শিখলাম?
অভিনয় শেষে আমরা প্রত্যেকে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর নিয়ে চিন্তা করি (শিখন নিয়ে চিন্তা):
শিক্ষায় সাফল্য লাভের জন্য গুরুত্বপূর্ণ গুণাবলি কী?
|
অনুশীলনী
১. শব্দ খোঁজার খেলা
নিচের এলোমেলোভাবে সাজানো অক্ষরগুলোতে পাশাপাশি, কোনাকুনি, অথবা উপর-নিচ বরাবর লুকিয়ে আছে সফল শিক্ষার্থীর বিভিন্ন গুণাবলি। সেগুলো চিহ্নিত করার চেষ্টা করো। তোমার বোঝার সুবিধার জন্য একটি করে দেয়া আছে।

২. নিজেকে জানি
নিচের ছকে প্রথমে সফল শিক্ষার্থী হবার গুণাবলির তালিকা তৈরি করো। প্রয়োজন হলে আরও কিছু ছক তৈরি করে নিতে পারো। এবারে প্রতিটি গুণের পাশে তোমার নিজের মধ্যে কোনটি আছে বা নেই তা ছকে উল্লেখ করো। যদি গুণটি না থেকে থাকে তবে কী উপায়ে তুমি তা অর্জন করতে পার তা পাশে উল্লেখ করো।
| সফল শিক্ষার্থী হবার গুণাবলি | যথেষ্ট আছে/ কম আছে | কী উপায়ে তা আমি আরও ভালোভাবে অর্জন করতে পারি? (যদি গুণটি কম থেকে থাকে) | |
| ১ | |||
| ২ | |||
| ৩ |
৩. জীবন নিয়ে ভাবি
নিজের শিক্ষাজীবনে কী কী অসুবিধা, বাধা আছে বা আসতে পারে, কীভাবে তা অতিক্রম করবে তা নিজের খাতায় লিখো।
৪. সাপ্তাহিক রুটিন তৈরি
প্রথমে সপ্তাহের একটি ছকে প্রতিটি দিনকে সময় অনুযায়ী কতগুলো ভাগে ভাগ করো। এবারে প্রতিদিনের কাজগুলোকে সময় অনুযায়ী ভাগ করে তাতে বসাও। তৈরি হয়ে যাবে তোমাদের সাপ্তাহিক রুটিন। উদাহরণ হিসেবে একটি রুটিনের কিছু অংশ দেওয়া হলো। ইচ্ছে করলে রুটিনটিতে ছোটো রঙিন ছবি, চিহ্ন, নকশা ইত্যাদি ব্যবহার করতে পারো। তৈরির পর এটি তোমাদের বাসার কোথাও টাঙিয়ে দিতে পারো।

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
১. কোনটি শিক্ষায় সাফল্য লাভের জন্য প্রয়োজনীয় গুণ?
ক. শুধু পরীক্ষার আগের রাতে পড়া তৈরি করা
গ. শুধু পরীক্ষায় সফল হবার কারণ নিয়ে চিন্তা করা
খ. ক্লাসে পড়া না বুঝলে শিক্ষককে জিজ্ঞাসা করা
ঘ. ক্লাসে নোট না নিয়ে শুধু শুনে পড়া মনে রাখার চেষ্টা করা
২. সক্রিয় থাকা বলতে কী বুঝায়?
ক. সব কাজে তর্ক করা
খ. হৈচৈ করে কাজ করা
গ. সকল কাজে আগ্রহ থাকা
ঘ. ধৈর্য সহকারে কাজ করা
নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে ৩ ও ৪ নম্বর প্রশ্নের উত্তর দাও।
টুসির কাছে গণিত বিষয়টি কঠিন লাগে। একদিন শ্রেণির কাজের একটি অংক সে মিলাতে পারছিল না। রাত জেগে বিভিন্নভাবে অঙ্কটি সমাধান করার চেষ্টা করতে লাগল এবং দেখা গেল একসময় সে অংকটি সমাধান করে ফেলল।
৩. টুসিকে বলা যায়-
ক. সক্রিয়
খ. সৃজনশীল
গ. অধ্যবসায়ী
ঘ. নিয়মানুবর্তী
৪. টুসির মত এ ধরনের বৈশিষ্ট্যের কারণে মানুষ
ক. সফলতা লাভ করে
খ. ভুল কম করে
গ. আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i
খ. i ও ii
গ. ii ও iii
ঘ. i, ii ও iii
সৃজনশীল প্রশ্ন
ঝড়-বৃষ্টি যা-ই থাকুক না কেন মোহন স্কুলে হাজির। এ কারণে সে পুরস্কারও পেয়েছে। কিন্তু একদিন শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে দলীয় কাজ দিলে সে বিষয়টি ভালোভাবে খেয়ালই করল না। সবাই মিলে পরিবারের শ্রেণিবিভাগ নিয়ে আলোচনা করলেও সে তাতে যোগ দিল না। এমনকি পরে শিক্ষক যখন এ বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করছিল, তখন অন্যেরা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় খাতায় লিখে রাখলেও সে বসে ছিল।
ক. মুসলিম নারী জাগরণের পথিকৃৎ কাকে বলা হয়।
খ. সাপ্তাহিক রুটিন বলতে কী বুঝায়?
গ. শিক্ষায় সাফল্য লাভের কোন গুণাবলি মোহনের মধ্যে বিদ্যমান ব্যাখ্যা করো।
ঘ. শ্রেণিকক্ষে মোহনের আচরণের জন্য সে কী ধরনের সমস্যায় পড়তে পারে বলে তুমি মনে করো? তোমার মতামত দাও।
Read more


